লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ১৪; গাজায়ও চলছে তীব্র বিমান আক্রমণ
ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, এমন খবর পাওয়া গেছে। হামলা মূলত লেবাননের দক্ষিণ বা বর্ডার এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যেখানে গত কিছু সময় ধরেই উত্তেজনা বেড়ে যাচ্ছে। লেবাননের স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত এলাকায় সরকারি দফতর এবং বাসস্থান ধ্বংস হতে দেখা গেছে, এবং আহতদের মধ্যে বেসামরিক সাধারণ মানুষও রয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। গতকাল দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ গাজার রাফাহ এবং খান ইউনিসের কিছু অংশে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালিয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল ৩৯৩টি হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ২৭৯ জন নিহত এবং ৬৫২ জন আহত হয়েছে।( তথ্য সূত্র আল-জাজিরার)
অপর দিকে, গাজায় ইসরায়েলের বিমান আক্রমণও অব্যাহত রয়েছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামলার পরবর্তী সময়ে মৃত ও আহতের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। এই বিমান হামলা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবাধিক্যের গুরুতর লঙ্ঘনের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠে। অনেক দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলের এই আক্রমণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি ডাক দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, যদি এ ধরনের বিমান হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি শুধু গাজা বা লেবাননে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাত আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৯,৪৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭০,৭০৬ জন আহত হয়েছে। ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে মোট ১,১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জনকে বন্দী করা হয়েছিল।(তথ্য সূত্র আল-জাজিরার)
এমতাবস্থায়, ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মধ্যস্থতার চেষ্টাকে গুরুত্ব দিতে হবে। যুদ্ধবিরতি ছাড়া এতজন নিরীহ মানুষের প্রাণহানির প্রবণতা থামানো সম্ভব হবে না।


Comments
Post a Comment