ভোর থেকে গাজায় ২১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

 

সংবাদদাতা: মনির সরকার | প্রকাশকাল: ২৮ জুন ২০২৫ | স্থান: গাজা, ফিলিস্তিন

আজ ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে গাজা উপত্যকায় অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা "সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান" চালাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এই হামলা জনবহুল আবাসিক এলাকায় চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতের নিরবতা ভেঙে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে গাজার বিভিন্ন এলাকা কেঁপে উঠে। বিশেষ করে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুস ও রাফাহ এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এইসব হামলায় ধ্বংস হয়েছে বহু ঘরবাড়ি, ভবন এবং একটি স্থানীয় হাসপাতাল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। আহতদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন,

 হামাস ও ইসলামিক জিহাদের "সন্ত্রাসী অবস্থান" লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে তারা নির্দিষ্টভাবে কোন অবস্থানকে টার্গেট করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ফিলিস্তিনের প্রতিরক্ষা সূত্র দাবি করেছে, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক ভবন ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের সামিল। হামলার পর গাজার রাস্তাগুলোতে হাহাকার শুরু হয়। নিহতদের লাশ কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় বের করে আনতে দেখা যায় ধ্বংসস্তূপ থেকে। অনেক মানুষ তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে পাচ্ছেন না।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধ সংকট এবং ধারাবাহিক বোমাবর্ষণে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ হামলার নিন্দা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় চলমান সহিংসতা একটি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে এবং বেসামরিক জনগণকেই এর ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে। তারা যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলবে। ফিলিস্তিনি জনগণের উপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং তা দীর্ঘমেয়াদে শান্তির পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।




শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গাজার আকাশে এখনও ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েল তার অভিযান বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে।

শেষ কথা:
এই প্রতিবেদন লিখে শেষ করার মুহূর্তে গাজার মানুষদের চোখে জল আর আকাশে ধোঁয়া ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব এখন নীরব, আর গাজা—রক্তাক্ত।


আপনি চাইলে এই প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বা ইংরেজি অনুবাদও পেতে পারেন।

Comments

Popular posts from this blog

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে পারে এমন বিলের উপর ভোটাভুটি আজ

Taliban মন্ত্রীর দিল্লি সফর: ভারতীয় বিনিয়োগ ও পণ্যের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান”

লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ১৪; গাজায়ও চলছে তীব্র বিমান আক্রমণ