পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ সেনা নিহত

 

প্রতিবেদন:প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার
তারিখ: ২৮ জুন ২০২৫

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্তত ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এই হামলাটি গতকাল (২৭ জুন) সন্ধ্যায় সংঘটিত হয়, এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে সেনাবাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, সেনারা নিয়মিত টহলরত অবস্থায় ছিল যখন আত্মঘাতী বোমারু একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে তাদের কনভয়ের সামনে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন সেনা নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও কয়েকজন। পরে আহতদের মধ্যে ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সন্দেহ করছেন তালেবান সংশ্লিষ্ট সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) কিংবা আইএস-সম্পর্কিত গোষ্ঠী এই হামলার পেছনে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত এলাকায় টিটিপি’র তৎপরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণও বেড়েছে।

ওয়াজিরিস্তান এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই তালেবান ও অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও গত এক দশকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী একাধিক বড় ধরনের অভিযানের মাধ্যমে এই অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়নের চেষ্টা করেছে, তবে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে জঙ্গি হামলা ও সহিংসতা লেগেই আছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী উভয়েই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, "সেনাবাহিনীর এই আত্মত্যাগ দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে এবং এই রক্ত কখনো বৃথা যাবে না।" প্রধানমন্ত্রী নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এই হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো অঞ্চলে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের খোঁজে ও তাদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আফগানিস্তানের তালেবান পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এই জঙ্গি তৎপরতাকে আরও উৎসাহিত করছে।

সার্বিকভাবে, এই আত্মঘাতী হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং সরকারের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণ এখন আরও বেশি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করছে।

শেষ.

Comments

Popular posts from this blog

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে পারে এমন বিলের উপর ভোটাভুটি আজ

Taliban মন্ত্রীর দিল্লি সফর: ভারতীয় বিনিয়োগ ও পণ্যের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান”

লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ১৪; গাজায়ও চলছে তীব্র বিমান আক্রমণ